1. admin@prottashanewsbd24.com : admin :
শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন

নামের ভুলে ধর্ষন মামলার আসামী ইউপি সদস্যঃ খাটছেন জেল

প্রত্যাশা নিউজ ডেস্ক
  • সময় : সোমবার, ৮ মে, ২০২৩
সংবাদটি শেয়ার করুন:

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় এক পোশাক শ্রমিককে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান ঢালীসহ সাতজন গ্রেফতার হয়েছেন। তারা এখন কারাগারে। এদের মধ্যে নামের ভুলের কারণে ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

শনিবার (৬ মে) তাকে গ্রেফতার করা হলেও রোববার বিষয়টি জানাজানি হয়। মামলার একদিন পর পড়াশোনা জানেন না দাবি করে বাদী ভুলবশত ওই ইউপি সদস্যকে মামলার আসামি করেছেন। মূলত মিজান ঢালীর জায়গায় মিজান মাদবর হওয়ার কথা ছিল।

ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বাবা বলেন, ‘আসলে আমি একজন কৃষক। আবার জানি না পড়াশোনা। আবার শুনি আমার মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এমনিতেই হতাশার মধ্যে ছিলাম। সেখানে মেম্বার মিজান ঢালীর নাম বলেছিলাম মামলা লেখার সময়। কিন্তু মেম্বার মিজান ঢালী ত না আসামী হবে এবাদুল মাদবরের ছেলে মিজান মাদবর। আমার মেয়েকে নির্যাতনের সাথে মিজান ঢালীর কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি এসেছেন ঘটনার পর।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিষয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আমি জানিয়েছি। বললাম মেম্বারের নামটি বাদ দিয়ে মিজান মাদবরের নাম দেওয়া যায় কিনা। তিনি বলেছেন এটা এখন সম্ভব না। আদালতে গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। তাহলে নাম সংশোধিত করা যাবে। পড়াশোনা জানলে এই ভুল করতাম না।’

ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী জানায়, ‘ধর্ষণের সময় ইউপি সদস্য মিজান ঢালী কাকা ছিলেন না। ওই সময় মিজান মাদবর নামে অন্য একজন ছিলেন। মেম্বারের কোন দোষ নেই।’

ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান ঢালীর ভাই দুলাল ঢালী বলেন, ‘আমাদের ভাই এলাকার ভেতর একজন ভদ্রলোক। জনগণের ভোটে নির্বাচিত মেম্বার। এছাড়া এজাহারে আমার বাবার নাম লেখা হয়েছে ‘বাদশা ঢালী’। কিন্তু আমার বাবার নাম হবে আবুল বাসার ঢালী। এরপরও পুলিশ আমার ভাই মিজান ঢালীকে ধরে নিয়ে গেলো। আমার ভাইয়ের একটা মাত্র মেয়ে আছে। মানসম্মান কিছুই থাকলো না আর। ধর্ষণের মত খারাপ কাজের সঙ্গে আমার ভাই মিথ্যা জেল খাটছে। এটা মেনে নিতে পারছি না। আমার ভাই মামলার বাদীর ভাষ্যে নির্দোষ। আমি আমার ভাইয়ের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।’

এ বিষয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন বলেন, শনিবার ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে একজন ইউপি সদস্য মিজান ঢালীসহ সাতজনকেই গ্রেফতারের জেলহাজতে পাঠাই আমরা। তবে পরদিন এসে বাদী বলছেন ইউপি সদস্যের নাম নাকি ভুলে তিনি মামলার এজাহারে লিখেছেন। মিজান মাদবরের জায়গায় ভুলে মিজান ঢালী লিখে দিয়েছেন।

ওসি আরও বলেন, আমরা থানায় কোনো এজাহার লিখি না। মামলার বাদী বাইরের কম্পিউটার দোকান থেকে টাইপ করে লিখে এনে স্বাক্ষর করে এজাহার জমা দিয়েছেন। এছাড়া ধর্ষণের বিষয়টি সমাধানের তারিখ দেন ওই ইউপি সদস্য। ধর্ষণের ঘটনার বিচারের ক্ষমতা ইউপি সদস্যের নেই। তিনি এসব কথা বলার কারণে পুলিশ তাকে বড় অপরাধী মনে করছে। তাই গ্রেফতার করা হয়েছ। তবে বাদীকে বলেছি যদি আপনি ভুল করেন তাহলে আদালতে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব  সংরক্ষিত © প্রত্যাশা নিউজ বিডি ২৪ © ২০২১
Theme Customized BY Theme Park BD