‘কেউ যদি আমাগোরে ডাকে তাইলে ভোট দিতে যামু নাইলে আর গিয়া কি করমু,’ এভাবেই ভোট নিয়ে নিজের আগ্রহের কথা বলছিলেন ভোলার বিবি ফাতেমা।
ভূমিহীন মৎসজীবী মিজ ফাতেমা ভোলা-৩ সংসদীয় আসনের একজন ভোটার। ছোটবেলা থেকেই মেঘনার বুকে ছোট্ট নৌকায় তার বসবাস।
জীবীকার তাগিদে ভোটের আমেজ অনেকটা গৌণ হয়ে পড়েছে মেঘনার কূল ঘেঁষে বসবাস করা জেলেপল্লীর মানুষের কাছে।
“আমাগো তো ভাগ্যে কিছু নাই, আমাগো জন্যে কেউ তো কিছু করে না,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন ভোলা খাল এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হাসান।
নির্বাচনের আগে প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির হিসেবে বিস্তর ফারাক নদী ভাঙন কবলিত এলাকার এই মানুষগুলোর কাছে। যদিও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারার আক্ষেপও রয়েছে অনেকের।
দ্বীপ জেলা ভোলার শহর-বাজারে ভোটের সমীকরণ নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও প্রত্যন্ত এলাকায় ভোটের আমেজ এখনও খুব একটা নেই।
অবশ্য কয়েকদিন আগে পর্যন্তও পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন ছিল। ভোলার নির্বাচনী রাজনীতির সমীকরণ হঠাৎ বদলে যাওয়ায় ভোট নিয়ে আলোচনা আর কৌতূহল অনেকটাই কমেছে।
মূলত আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি- দ্বীপ জেলা ভোলার নির্বাচনী ইতিহাসে এই দুই দলই ঘুরেফিরে এসেছে ক্ষমতায়।
তবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অবর্তমানে নতুন শক্তি হিসেবে সামনে আসার আলোচনায় ছিল জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলনসহ ১১ দলের সমন্বয়ে গঠিত জোট।
ভোলার একাধিক আসনে এই জোটের প্রার্থীরা বিএনপিকে শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে বলেও মনে করেছিলেন অনেকে।
কিন্তু শেষমেষ জামায়াত জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন সরে যাওয়ায় পরিস্থিতি বদলে গেছে।
জেলার সাধারণ ভোটার এবং নাগরিক সমাজের অনেকেই বলছেন, জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলন এক হলে ভোলার অন্তত তিনটি আসনে বিএনপির সঙ্গে লড়াইয়ের সম্ভাবনা ছিল।
কিন্তু এখন “বিএনপির জন্য ভোটের পরিবেশটা অনেকটা একপেশে হয়ে গেছে বলেই মনে হচ্ছে। আর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতার সম্ভাবনা না থাকলে ভোট নিয়ে উদ্দীপনাও কমই থাকে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন ভোলার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম অনু।
যদিও নির্বাচনী ঐক্য না থাকলেও নিজেদের প্রার্থী দিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বীদের চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুতির কথা বলছে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন।
নির্বাচনে জয়ী হতে মাঠে থাকার কথা বলছেন অন্যান্য দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও।
বিবিসি বাংলা