ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাটকীয়তা যেন পিছু ছাড়ছে না। জোটগত সিদ্ধান্তে আসনটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এলডিপি) ছেড়ে দেওয়া হলেও, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার না করা এবং শেষ মুহূর্তে এলডিপির সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় নির্বাচনী মাঠে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে ভোলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এলডিপির জেলা সভাপতি মো. বশির আহমেদ ঘোষণা দেন, ১০ দলীয় জোটের ঐক্য অটুট রাখতে তাদের প্রার্থী মোকফার উদ্দিন চৌধুরী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। এলডিপি এখন এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল করিমকে সমর্থন দেবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীর অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে জেলা সভাপতি জানান, মোকফার উদ্দিন চৌধুরী বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
লিখিত বক্তব্যে জামায়াত প্রার্থীর প্রশংসা করা হলেও, জোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জামায়াতের অনড় অবস্থানের কারণেই তারা সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে ইঙ্গিত দেন বশির আহমেদ।
এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত না থাকলেও মুঠোফোনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলডিপি প্রার্থী মোকফার উদ্দিন চৌধুরী। তিনি সরাসরি জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে বলেন, ‘গত ১৫ জানুয়ারি জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার করার কথা ছিল। কিন্তু তারা তা করেনি, উল্টো ২১ তারিখে প্রতীক বরাদ্দ নিয়েছে। দল চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েও মনোনয়ন বাতিল করতে পারত, কিন্তু তারা সেটিও করেনি। উল্টো আমার বিরুদ্ধে বিএনপি থেকে টাকা নেওয়ার মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’
জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হারুন অর রশিদ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্র থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত থাকলেও তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের চাপের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আজ বিকেলেই এলডিপিকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তার আগেই খবর পেলাম তারাই আমাদের সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছে।’
তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল করিমের মা মারা যাওয়ায় এই বিষয়ে তার ব্যক্তিগত বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জানুয়ারি জোটের পক্ষ থেকে আসনটি এলডিপিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল করিম প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। গত ২৪ জানুয়ারি বোরহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতের আমির ফেসবুকে প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও, প্রার্থীর মায়ের মৃত্যুজনিত কারণে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়। শেষ পর্যন্ত এলডিপির এই আকস্মিক সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় ভোলা-২ আসনের নির্বাচনী সমীকরণ এক নতুন মোড় নিল।