লক্ষ্মীপুরে একটি প্রিন্টিং প্রেসের দোকান থেকে উদ্ধার হয়েছে ছয়টি ভোটের সিল। সেগুলো ওই প্রেস মালিককে বানানোর নির্দেশ দিয়েছেন জামায়াত ইসলামীর এক নেতা।
এ ঘটনায় ‘মারইয়াম প্রিন্টার্স’ নামক ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রেসের মালিক মো. সোহেল রানা (৩৪) ও লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শরীফ হোসেন ওরফে সৌরভকে (৩৪) আসামি করে সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হুমায়ুন কবির।
এদিকে ঘটনার পর সৌরভকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানিয়েছে জেলা জামায়াত।
অন্যদিকে বুধবার দুপুরে মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তারকৃত সোহেলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তবে দ্বিতীয় আসামি জামায়ত নেতা সৌরভ এখনো পলাতক রয়েছেন। সোহেল রানা সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খুরশিদ আলমের ছেলে।
সৌরভ পৌরসভার দক্ষিণ বাঞ্ছানগর গ্রামের মো. শাহজাহানের ছেলে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের পুরাতন আদালত সড়ক ‘মারইয়াম প্রিন্টার্স’ নামক একটি দোকানে অবৈধভাবে ভোটের সিল তৈরি করছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখান থেকে ১৬ ঘর বিশিষ্ট ছয়টি ভোটের সিল উদ্ধার করা হয়।
জব্দ করা হয় একটি কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন। গ্রেপ্তার করা হয় দোকানের মালিক সোহেল রানাকে। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা জানান, সৌরভ নামে এক ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপে সিলগুলো তৈরির জন্য গত ৩০ জানুয়ারি অর্ডার করেন।
সৌরভ নিজেও একটি প্রিন্টিং প্রেসের মালিক। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছে।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, পুলিশ বাদী হয়ে দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি সোহেল রানাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
জেলা জামায়াতের আমির এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, ঘটনার পরপরই আমরা সৌরভকে দল থেকে বহিষ্কার করেছি। তিনি ভোটারদের ‘ভোট দেওয়া’ শেখানোর জন্য নাকি সিলগুলো তৈরি করছিল। এটা দায়িত্বহীন কাজ। এছাড়া যার দোকান থেকে সিল উদ্ধার হয়েছে, তিনি আমাদের দলের কেউ নন।
এদিকে সিল উদ্ধারের পর মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিএনপি এবং জামায়াত ইসলামী পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে। সম্মেলনে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সিলকাণ্ডের সঙ্গে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতাসহ আটক সোহেলকে জামায়াতের কর্মী বলে দাবি করেন। পরে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে একই আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ও জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম আটক সোহেল জামায়াতের কেউ নয় বলে জানিয়েছেন।