নোয়াখালীর হাতিয়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতা আবদুল গাফফার (জিসান)-এর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের সাগরিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার জন্য এনসিপির নেতা-কর্মীদের দায়ী করেছেন ভুক্তভোগী, যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে দলটি।
আবদুল গাফফার দাবি করেন, নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা একটি দুর্নীতির অভিযোগ সমর্থন করে ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার করার জেরেই তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার আগে থেকেই তাঁকে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত পৌনে ৯টার দিকে একদল ব্যক্তি গাফফারের বাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং ঘরের জানালার কাচ ভাঙচুর করে। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
হামলার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে গাফফার বলেন, তিনি বাড়িতে না থাকলেও তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা সেখানে বসবাস করেন। রাজনৈতিক বিরোধের কারণে তাঁদের আতঙ্কিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে এনসিপির হাতিয়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মো. সামছু তিব্রিজ অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য, আবদুল গাফফার নিজেই ঘটনাটি সাজিয়ে থাকতে পারেন এবং এনসিপির কোনো নেতা-কর্মী এ হামলার সঙ্গে জড়িত নয়। তিনি জানান, ঘটনার পর সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের অনুরোধে দলীয় নেতাদের নিয়ে তিনি ওই বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগও সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এসব অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, অভিযোগ সত্য হলে আবদুল গাফফার কেন পরে ফোন করে ক্ষমা চেয়েছিলেন।