কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ইটভাটা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জামায়াত নেতা জালাল হাজীর বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ, আলোচনা সমালোচনা স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ইটভাটা মালিকদের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর থেকে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ঘনিষ্ঠ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তার পিতা বিল্লাল মাস্টারের মাধ্যমে স্থানীয় ব্রিকফিল্ড ব্যবসা এবং সরবরাহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করে আসছে আলোচিত এই জালাল হাজী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক উপদেষ্টা আফিস মাহমুদ ক্ষমতা গ্রহণের দিনকয়েক পরই জালাল হাজী তার নিজ বাড়ি মুরাদনগরে একটি প্রীতি ভোজের আয়োজন করেন। যেখানে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল মাস্টার সহ স্থানীয় আসিফ ঘনিষ্ট একাধিক ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। স্থানীয়দের তথ্যমতে, ওই ঘটনার পরপরই জালাল হাজী মুরাদনগর উপজেলা ব্রিকফিল্ড মালিক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত বা মনোনীত হন বলে এলাকায় জোর গুঞ্জন রয়েছে।
এদিকে উপজেলার একাধিক ব্রিকফিল্ড মালিকের অভিযোগ, জালাল হাজীর বাড়িতে অনুষ্ঠিত প্রীতি ভোজ আয়োজনের পর থেকে অদ্যাবধি জালাল হাজীর মাধ্যমে মুরাদনগরের বিভিন্ন ইটভাটা থেকে অবৈধ ভাবে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। বেশ কিছু ব্যবসায়ীর বক্তব্য এমন যে, বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে যেকোন ব্রিকফিল্ড কেনাবেচার ক্ষেত্রে প্রায় অর্ধ কোটি থেকে কোটি টাকা কিংবা তারচেয়ে বেশী অঙ্কের অর্থ চাঁদা দিতে হয়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বেশ কয়েকটি ব্রিকফিল্ড এর লেনদেনের সময় জালাল হাজী মোটা অঙ্কের টাকা বিক্রেতা পক্ষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়াও গোমতী নদীর বাধেঁর মাটি এবং বালু উত্তোলের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এমন সব হঠকারী কর্মকাণ্ডের সহায়তার জন্য জালাল হাজীর সঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সম্পৃক্ত। যা ইতিমধ্যে স্থানীয়দের আলোচনায় উঠে এসেছে। এলাকাবাসীর মতে, জালাল হাজী স্থানীয় জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং অতীতের বিভিন্ন নির্বাচন ছাড়াও অতি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে তিনি নবীপুর এলাকার দুটি ইউনিয়নের দায়িত্ব পালন ও নির্বাচনী তহবিলে অর্থ সহায়তা করেছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়।